रविवार, अप्रैल 19, 2026

कहानी 79 এক মূঠো আলো पंजाबी से बांग्ला

 পজ্ঞাবী গল্প              এক মুঠো আলো

                                                                                    তৃপ্তা কে সিংহ

                                    অনুবাদ – নীলম শর্মা অংশু


যাও বাবা! এখন ঘুমাতে যাও, ভোরে উঠতে হবে। সকালে কথা বলব, সোনা' গুরমীত কৌর জিন্দরকে আশ্বস্ত করলেন। জিন্দরের স্ত্রী জাস্সি অনেক দিন ধরেই ফিসফিস করছিল। আসতে-যেতে  যেন সে গুরমীত কাউরের কানে কথাগুলো ঠেসে দিচ্ছে, কিন্তু গুরমীত কাউর খুব একটা পাত্তা দেন নি। জিন্দর চলে যাওয়ার পর, উনি খাটের সাথে হেলান দিয়ে ঝুঁকে তার পা দুটো ছড়িয়ে দিয়ে বসলেনঘুম তার চোখ থকে উধাউ।  ঘরের চারি দিকে ঘুরে তাকালেন। বড় ঘর, দেয়ালে কাঠের আলমারী, ড্রেসিং টেবিল আর অনেক সাজসজ্জার জিনিসসামনে বড়-বড় কাঁচের জানালার উপরে সোনালি ফ্রেমে জড়ানো স্বামী সরদার সতনাম সিঁহের ছবির মালা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন গুরমীত কাউর

জানালা থেকে দেখা চাঁদের আলো গুরমীতের হৃদয় ছাড়া ঘরের সমস্ত কিছুকে আলোকিত করে। এই চাঁদের আলোতেই গুরমীত এবং সতনামের অনেক রাত কেটেছে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে।

'সরদার জী, আমি কখনো ভাবিনি যে তুমি আমাকে ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে।' গুরমীত কান্নায় ফেটে পড়ল এবং তার স্মৃতির বাক্সের ঢাকনা খুলে গেল।

'আমি তোমাকে বলেছিলাম একদিন তোমাকে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি করে দিয়ে তার রাজরাণী হিসেবে রাখব। দেখো, আমি আমার প্রতিশ্রুতি রেখেছি।'  গুরমীতকে জড়িয়ে ধরে একদিন বলেছিল সতনাম।

তোমার প্রথম রাতের কথা মনে আছে?’ দুষ্টুমি করে বলল সতনাম। গুরমীত কাউর তার বিয়ের দিনটির কথা মনে রেখেছেন। দশম শ্রেণী পাশ করে আঠেরো তে পা রাখতে না রাখতেই সতনামের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।

'ছেলেটি স্কুল টীচারএমন ছেলে রোজ-রোজ পাওয়া যায় না।' বাবা হুকুম শুনিয়ে দিয়েছিলেন।

'হ্যাঁ, অন্তত একবার গিয়ে ছেলের ঘর-বাড়ি তো দেখে এসো'  মা একটু নিচু গলায় দু-একবার বাবাকে বললেন।

সে একজন স্কুল মাস্টার, এখুন বাড়ি না থাকলেও সে নিজেই করে নেবেবাবার সঙ্গে তর্ক করার সাহস মায়ের ছিল না।

বিয়ের পোশাকে সেজে-গুজে, মনের ভীতর অনেক স্বপ্ন নিয়ে কাঁদতে-কাঁদতে গাড়িতে বসলাম। এক ঘণ্টার যাত্রায় আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছে গেছি, আমার বাবা-মায়ের জন্য পর হয়ে গিয়ে  প্রথম দিন সন্ধ্যায় রীতি অনুযায়ী আমার ও আমার সঙ্গে আসা আমার বউদির বিছানা মাটিতে পেতে দেওয়া হয়। এটি একটি ছোট ঘর এবং তাও আত্মীয়স্বজনে ভরা। পরম্পরা অনুযায়ী ছোট দেওর কে আমার কোলে বসানো হয়, কিন্তু সে কোনো শগুন না নিয়ে লজ্জায় বাইরে দৌড় দেয়। উমস ভরা সেই বিষণ্ণ রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। দ্বিতীয় দিনে অনেক অতিথি চলে গেছে। আমার দাদা আর বউদি ও চলে গেলেন

রাতে ছোট ননদরা আমাকে একটা ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসে। ঘর......?

তাজা গোবর ও মাটি দিয়ে লেপো ঘরে তখনও গোয়ালঘরের গন্ধ রয়েছে দড়ি দিয়ে তৈরি দুটি খাট পাতবার পর ঘরে খুব একটা জায়গা অবশিষ্ট ছিল না।

আমি যখন ছাদের দিকে তাকালাম, আমার কান্না পাচ্ছিলখড়ের ছাদটিকে ঘরের নাম দেওয়া হয়েছিল। ঘরে ঢুকে সরদার সাহেব আমার ঘোমটা তুলে চোখের কষ্ট বুঝে ফেললেন।

গুরমীত, আমি তোমাকে আমার হৃদয়ের রাজপ্রাসাদে রাণী করে রাখব। শুধু একটু ধৈর্য্য ধরএই ঘরের কথা ভুলে যাও, আমার ভালোবাসা দিয়ে তোমাকে সুখী করব। তারপর আক্ষরিক অর্থে সেই রাতে এবং তার পরে প্রতিদিন তিনি তার সমস্ত কথা রেখেছিলেন।

আমি দুটি ঘর এবং একটি শেডকে একটি বাড়িতে রূপান্তরিত করেছি। শাশুড়ি মাঁ সর্বদা আশীর্বাদ করতেনপরিবারটি বড় ছিল এবং সতনামের বেতন দিয়ে সব পেরে ওঠা সম্ভব হয়নি। একটা না একটা খরচ লেগেই থাকতগ্রামের টেইলারিং সেন্টারে গ্রীষ্মের ছুটিতে শেখা সেলাই এখন কাজে লেগেছে। সেলাই মেশিন নিয়ে এসেছিল সতনাম। সারা গ্রামের মেয়ে-বধুরা আমার কাছ থেকে কাপড় সেলাই করিয়ে নিয়ে যায়সংসারের ছোটখাটো খরচ আমিই চালিয়ে নিতাম।

শীঘ্রই সতনাম পুরনো বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়ি তৈরি করেন। তিনটি ঘর, সামনে বারান্দা, এক কোণে রান্নাঘর আর গেটের কাছে বাথরুম।

দিনগুলো ডানা মেলে উড়ছিল। ছোট্ট জিন্দর ও সিমরানের আগমনে আনন্দ বয়ে আনলেও দায়িত্বের বোঝা ভারী হয়ে ওঠে।

দুই বোনকে ভালো বাড়িতে বিয়ে দিয়ে ছোট ভাই মদনের পড়াশুনার দায়িত্ব ও তার কাঁধে কিন্তু দশম শ্রণির পর মদন আর পড়তে রাজি হয়নি। তাকে এসি মেরামত কোর্স করানো হল।  ভালোই জমে উঠেছিল তার কাজ। তাকে বিয়ে দিয়ে সতনাম নিজের কিছু দায়িত্ব থেকে মুক্তি পান।

ছোট্ট জা (দেওরানী) দর্শী ভালো পরিবারের মেয়েএ বাড়ির বড় সংসারে তার দম বন্ধ হয়ে আসত।  বাচ্চাদের সে দূরে ঠেলে রাখতবারান্দায় রাখা সোফা গুলো তে সে তাদের কে বসতে দিত না।

'ভাবছি, বড় ঘরটা দর্শীকে দিয়ে দিতার যৌতুকের সমস্ত জিনিস একই ঘরে ধরে যাবে'

'দেখো, তুমি যা ঠিক মনে কর'

'আমার ভাল-মন্দ ভেবে আর কী হবে?  সে নতুন বউ, অনেক ইচ্ছা-শখ থাকে'

তোমার কি চলে যাবে ওই কোনেটার ঘরে?’

'আমাদের কি? এত বছর আমরা গোয়ালঘরে কাটিয়েছি। বাড়িতে শান্তি ও সম্প্রীতি থাকা চাইকাল নিজেই ব্যবস্থা করে দেব।'

এক বছরের মধ্যেই শ্বশুর মশাই আর শাশুড়ি মা পর-পর বিদাই নিলেনগুরমীত সতনামের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেলাইর কাজ করে-করে শারীরিক রূপে একটু দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বাচ্চারা বড় হয়ে গিয়েছিল। জিন্দর এবং সিমরন কলেজে যেতে শুরু করেছিল এবং দেওরের ছেলেমেয়েরাও স্কুলের উঁচু ক্লাসে পৌঁছেছিল। বাচ্চাদের পড়াশুনার জন্য একটা বড় ঘরের দরকার ছিল। সতনাম ও গুরমীত ঘরের এক কোণে সংসারের যাবতীয় জিনিস রাখার জন্য তৈরি টিনের ছাউনি দেয়া স্টোর কে একটি ঘরে রূপান্তরিত করল

ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও সংসারের অন্যান্য দায়িত্ব মেটাতে গিয়ে বেতন কোথা থেকে আসে আর কোথায় যে চলে যায় তা জানা যায় না।

ভালো সময়ে শহরের উপকণ্ঠে একটি কলোনিতে দস মারলার (প্রায় ২৮০০ বর্গ ফূট) প্লট কিনে রেখে ছিলেন সতনাম। তখন ওই এলাকায় লোকের ঘর-বাড়ি তেমন গড়ে ওঠে নি। তাই যুক্তিসঙ্গত দামে পাওয়া গিয়েছিলগ্রাম ও পরিবার ছেড়ে শহরে আসার কথা কখনও ভাবেননি সতনাম, কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছিলঘরে যে ফিসফিসানি চলছিল সেটা তাকে ভাবতে বাধ্য করেছিলএকটা ভালো ঘটনা ঘটেছিল সতনাম ওফিস থেকে কিছু বকেয়া পেমেন্ট পেয়েছিলেনওই টাকা দিয়ে তিনি বাড়ির  তৈরির কাজ শুরূ করেন এবং বিভাগে লোনের জন্য আবেদন করেন।

'একটা কথা বলি, আমরা মদনের সঙ্গে বাড়ির কোনো ভাগা-ভাগি করব না, আমাদের আসা-যাওয়া থাকবে। আমরা তার জন্য আমাদের ভাগ ছেড়ে দেব।' গুরমীত সতনাম কে বলেছিল।

'দেখ, তুমি যা ঠিক মনে কর, তাই হবে।'

শহরে বাংলো তৈরির কাজ শুরু করেন সতনাম। সব ঘর গুলো বেশ বড় করা হয়েছিল খুব শখ করে কাঠের কাজ করানো হলমেঝেতে মার্বেল বসানো হয়েছিল। একটি মাস্টার বেড রুম তৈরি করো হলঘরে রাখা প্রতিটি জিনিস গুরমীতকে সঙ্গে নিয়ে তার পছন্দ অনুযায়ী কেনা হয়েছিল। সত্যিই সতনাম গুরমীতকে রাজপ্রাসাদের রাজরানী করেছিলেন। প্রথম রাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির রক্ষা করেছিলেন।

এর মধ্যই সতনামের পদোন্নতি ও হয়েছিলসিমরনের জন্য কানাডার বাসিন্দার সম্বন্ধ ও পাওয়া গিয়েছিলপ্রায় চার মাসের মধ্যে সে কানাডায় চলে যায়জিন্দর একটা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে গেছে।

নিজের জমানো টাকা থেকে সতনাম বাড়ির দোতলা তৈরি করেন। গুরমীত উভয় সময় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতেন এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করতেন।

জিন্দারের ও একটি ভালো সম্বন্ধ্য দেখে বিয়ে দেওয়া হলপরীর মতো জাস্সিকে ঘরে পুত্রবধূ করে এনে  গুরমীত আনন্দে মেতে ওঠেন। জাস্সি যখন জিন্স-টপ পরে জিন্দরের সঙ্গে ঘুরতে বেরায়ে, গুরমীত উচ্ছ্বসিত হন। এমনকি জাস্সিকে কোনো কাজ করতেও দিতেন না।

গুরমীত দোতলার ভাড়ার প্রতিমাসের পাওয়া ১৫,০০০ টাকাও জাস্সির হাতেই তুলে ধরতেন যাতে সে তার পছন্দ অনুযায়ী খরচ বা সঞ্চয় করূক

সুখের সংসারে গ্রহন লাগতে আর দেরি কোথায়একটি রাজপ্রসাদের রাজরানি গুরমিতের সুখের রাজত্বে দু:খের ছোয়া লাগে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সতনাম হঠাৎ গুরমীতের সঙ্গ ত্যাগ করেন।

সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো সতনামের ছবি দেখে গুরমীত অতীতের ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে আসেন। অনেক রাত হয়ে গেছে কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই। হৃদয় আক্রান্ত হয়ে উঠছিল। এই সময় তিনি সতনামের কথা মনে করে খুব একাকি বোধ করেন।

এক সপ্তাহ আগে জিন্দরের ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গুরমীত যে কথাবার্তা শুনেছিল, তার মনে পড়ে গেল

'আজ কিটি পার্টিতে কত অপমানিত হয়েছি জানো? আমার বন্ধুরা আমাকে নিয়ে মজা করেছে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে জিন্দরকে বলছিল জাস্সি।

'কেন এমন কী হলো?'

'আর কি হবে?  ওরা বলল, তোমার বাড়ি দেখাও। আমি পুরো বাড়িটি দেখালাম, আমাদের ঘর, তার পর মাঁয়ের ঘর, দোতলা সব'

'তারপর?'

'তারপর কি ?  সবাই বললো, শাশুড়িকে মাস্টার বেডরুমটা দিয়ে, তুমি নিজে এই ঘরটুকো তে থাকো ?'

'এই ঘরটি কি তোমার কাছে ছোট্টখানি মনে হয়? পার্থক্য হতে পারে'

'কিন্তু মায়ের ঘরে সব কাজই খুব সুন্দর।'

এই ঘরটা কি খারাপ?’ জিন্দর একটু রেগেই জিজ্ঞেস করল।

'আমি কিছু জানি না... তোমার মা একা বসে এত বড় ঘর সামলাচ্ছেন, তিনি কি সেখানে ভাংড়া করবেন?' জাস্সি বলল।

'তুমি কি চাও?'

'আমি শুধু চাই মা ওই ঘর থেকে শিফ্ট হয়ে যাক,  আগে তো বাবা সংঙ্গে ছিলেন। এখন এত বড় ঘর দিয়ে উনি কি করবেন ?

'আচ্ছা.....' জিন্দর কিছুক্ষণ ভাবতে থাকে।

তাহলে মা কোন ঘরে যাবে?’

তুমি যে কি বল? আমাদের গেস্ট রুমের পাসের স্টোররুমটা তো অনেক বড়সিঙ্গেল বেড পেতে ও কত জায়গা থেকে যায় একা মানুষের জন্য তো ওটা সেরা। আর মাও তার পেটি গুলোর পাহারা দেবেনমজা করে বলল জাস্সি।

'আর স্টোরের জানালায় কুলার বসিয়ে দিলেই হল এসির কারণে বৃদ্ধ মানুষের তো এমনিতেই হাড় ব্যাথা করে

'আর মায়ের জামা-কাপড়ে ভর্তি আলমারি বা অন্যান্য জিনিসের ?'

সে সব আর উনি কি পড়বেন, এত হেবি-হেবিআমি সব ভাঁজ করে একটা পেটি তে রেখে দেব।

সেখানে আর দাঁড়ান কঠিন হয়ে পড়ে গুরমিতের পক্ষে ধপাস করে এসে বিছানায় পড়ে গেলেনতার মধুচন্দ্রিমার খড়ের ছাদঘরের কথা মনে পড়ে গেল। তার পর মনে পড়ল টিনের ঘরের কথা। সেলাই করার সময় সূঁচের যন্ত্রণা সেদিন গুলিতে সে কখনো অনুভব করেনি, কিন্তু আজ সেই সূঁচগুলো তার হৃদয়ে বিঁধছে। তার গলা কান্নায় ভেসে আসে।

আর এখন, জাস্সির উস্কানি তে জিন্দর মাকে জ্ঞান দিয়ে চলে গেল।

'আমি তোমাকে রাজরাণীর মতো রাখব,' সতনামের কথাগুলো তার হৃদয়ে বারবার টোকা দিচ্ছিল। তার চোখ থেকে অশ্রুধারা ক্রমশ: গড়িয়ে পড়ে

বড়রা ঠিকই বলেছেন, স্বামীর ভরসায় স্ত্রীর রাজত্ব, লোকটা চলে গেলে, জিনিস, টাকা-পয়সা সব এখানেই, কিন্তু স্ত্রীর রাজত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়েভাবতে ভাবতে ভোরের বেলায় গুরুদ্বারার গ্রন্থী মহাশয়ের পাঠের কন্ঠধ্বনির পর তার চোখে ঘুম আসে।

সকালে ঘুম থেকে উঠল দেরি করে। নিত্যদিনের কাজ ও স্নান সেরে গুরমীত কিছুক্ষণ বসে রাতের কথা ভাবতে থাকেনতারপর সে দৃঢ় উদ্দেশ্য নিয়ে উঠে তার ওয়ারড্রবের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়সে সূক্ষ্ম সোনালী রঙের সুখ্ম কাজ করা হালকা পেঁয়াজি রঙের পোশাক বের করে, ঠিকমতো পরল এবং মাথায় ওড়না দিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখলেনকানে টপস এবং হাতে চুড়ি পড়লেন

তোমাকে সত্যিই রানীর মতো লাগছে।গুরমিতের মনে হল যেন পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা সতনাম তাকে দেখে হাসছে।

জাস্সি সোনা! আমি তোমাদের চরণজিৎ আন্কেলের বাড়ি তে অখন্ডপাঠ সাহেব উপলক্ষে যাচ্ছি।'

ঠিক আছে মা।গুরমীত ভাল ভাবে ই আন্দাজ করেছিলেন যে জাস্সির জিভ তালু তে গিয়ে ঠেকিয়েছে।

'এবং হ্যাঁ! বাবা জিন্দর, কাল রাতে তুমি যে কথা বলছিলে........

'হ্যাঁ মা' জিন্দর মায়ের কাছে এলে জাস্সির কানও খাড়া হয়ে যায়।

'আমি অনেক ভেবেছি, এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা দোতলার ভাড়াটিয়ে তুলে দেব। উপরের বেডরুমটা অনেক বড়। তুমি আর জাস্সি ওটাকে তোমাদের মাস্টার বেডরুম করে ফেলো। ভাড়ার কী আছে... সন্তানের সুখই বড় কথা।' এই বলে গুরমীত মেনগেটের দিকে এগিয়ে গেলেন

'আরে হ্যাঁ জিন্দর, আমার ঘরের এসি ঠিক করিয়ে দাও। কাল রাতে প্রচন্ড গরম ছিল' এই বলে গুরমীত বাড়ির সীমানা থেকে বেরিয়ে গেলেন

জিন্দর তার মায়ের পিঠের দিকে তাকিয়ে রইল, আর জাস্সির কপাল অনেক ভাজ পড়ে গেল।

 

                                ০০০০


            লেখক পরিচিতি – তৃপ্তা কে সিংহ

 

 

পিএইচডি। পঞ্জাবির বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত গল্প প্রকাশিত হয়। একটি ভিন্ন ধরনের গল্পের  টেক্সচার জন্য জনপ্রিয়। পেশায় হোশিয়ারপুরে (পাঞ্জাব) ডেপুটি কমিউনিকেশন মিডিয়া অফিসার।


'ইক দিন' পাঞ্জাবি গল্প সংকলন। প্রিন্সিপাল সুজন সিং পুরস্কার (2015), দলবীর চেতন পুরস্কার (2020), শ্রী রামরূপ আঁণখি পুরস্কার (2021) দিয়ে ভূষিত।


   কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপননির্বাচিত পঞ্জাবি গল্প সংকলন, জানুয়ারি ২০২৬ 

                                        (ভাষা সংসদ, কলকাতা)


 

 

कोई टिप्पणी नहीं:

एक टिप्पणी भेजें